সম্পূর্ণ হস্তরেখা গাইড: ২১টি ৩D ল্যান্ডমার্ক, বাম বনাম ডান হাত এবং শুভ রেখা
হাতের শারীরিক গঠন, গ্রহ পর্বত এবং হস্তরেখার লক্ষণগুলি কীভাবে আপনার ভাগ্যকে প্রতিফলিত করে তা জানুন। এআই বায়োমেট্রিক বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত ২১টি সুনির্দিষ্ট শারীরিক ল্যান্ডমার্ক বুঝুন, কেন বাম ও ডান হাত ভিন্ন সত্য উন্মোচন করে তা আবিষ্কার করুন এবং কখন একটি রেখা সর্বোত্তম (শুভ) বা সতর্কতামূলক (অশুভ) হয় তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করুন।
বাম হাত বনাম ডান হাত: মূল পার্থক্য অনুধাবন করুন
সামুদ্রিক শাস্ত্র এবং আধুনিক নিউরো-পামিস্ট্রিতে আপনার দুটি হাত আত্মার জীবনযাত্রার দুটি পরিপূরক মাত্রাকে তুলে ধরে।
ডান হাত — আপনার নির্বাচিত ভাগ্য ও বর্তমান কর্ম
ডান হাত আপনার সচেতন ইচ্ছা, বর্তমান ক্যারিয়ার, অর্জিত সম্পদ এবং প্রতিদিনের কর্ম ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আপনি যে বাস্তবতা তৈরি করছেন তা নিয়ন্ত্রণ করে।
- সক্রিয় হাত: ডানহাতি ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জাগতিক সাফল্যের মূল প্রতিফলন।
- গতিশীল রেখা: জীবনধারা ও চিন্তাভাবনার পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতি ৬ মাসে এই রেখাগুলি পরিবর্তিত হয়।
- শাস্ত্রীয় প্রেক্ষাপট: জাগতিক দায়িত্ব ও সচেতন প্রচেষ্টার প্রধান কার্যকরী হাত।
বাম হাত — আপনার অন্তর্নিহিত নকশা ও সুপ্ত সম্ভাবনা
বাম হাত পূর্বজন্মের কার্মিক ঐতিহ্য (সঞ্চিত কর্ম), অবচেতন মানসিক প্রবণতা, শারীরিক সংবিধান এবং জন্মগত প্রতিভাকে প্রকাশ করে।
- জন্মগত ব্লুপ্রিন্ট: জন্মসূত্রে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গুণাবলী, শারীরিক গঠন ও পারিবারিক ঐতিহ্য দেখায়।
- বামহাতি ব্যক্তি: জন্ম থেকে বামহাতি হলে এটিই প্রধান সক্রিয় হাত হিসেবে কাজ করে।
- বৈদিক সমন্বয়: বাম ও ডান হাতের পার্থক্য প্রমাণ করে আপনি আপনার জন্মকুণ্ডলীর সীমা অতিক্রম করতে পেরেছেন কি না!
যদি ডান হাতের রেখাগুলি বাম হাতের চেয়ে স্পষ্ট, গভীর ও শুভ হয়, তবে আপনি সচেতন প্রচেষ্টার (পুরুষার্থ) মাধ্যমে অতীত কর্মকে সফলভাবে উন্নত করছেন। বাম হাত অনেক শক্তিশালী হলে বহু সুপ্ত সম্ভাবনা এখনও অব্যবহৃত রয়েছে।
২১টি ৩D হ্যান্ড ল্যান্ডমার্ক অন্বেষণ করুন
হাতের শারীরবৃত্তীয় সন্ধি, সংস্কৃত নাম, নিয়ন্ত্রক গ্রহ এবং বৈদিক তাৎপর্য দেখতে নিচের যেকোনো সংখ্যাযুক্ত ল্যান্ডমার্কে ক্লিক করুন।
কব্জির মূল (মণি his মণিबंध)
Manibandha Sandhiহাতের ভিত্তি যেখানে হাত বাহুর সাথে মিলিত হয়। পূর্বপুরুষের কর্ম, মূল জীবনীশক্তি এবং শারীরিক সহনশীলতার প্রতীক।
স্পষ্ট, অবিচ্ছিন্ন, অনুভূমিক মণিबंध রেখা দীর্ঘায়ু, পূর্বপুরুষের আশীর্বাদ এবং সুস্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয়।
ভাঙা, হাতের ভেতরের দিকে ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া বা জালযুক্ত রেখা দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নির্দেশ করে।
রেখা কখন শ্রেষ্ঠ ফল দেয় বনাম কখন ক্ষতিকর হয়
আপনার হাতের প্রতিটি রেখা, পর্বত ও পবিত্র চিহ্নের দ্বৈত সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাচীন বৈদিক গ্রন্থ কীভাবে শুভ আশীর্বাদ এবং সতর্কবার্তা পৃথক করে তা এখানে দেখুন।
হৃদয় রেখা (Hridaya Rekha)
Hridaya Rekhaহাতের অবস্থান: হাতের উপরিভাগে অনুভূমিকভাবে বিস্তৃত; কনিষ্ঠার নিচ থেকে শুরু হয়ে তর্জনী বা বৃহস্পতি পর্বতের দিকে অগ্রসর হয়।
গভীর, স্পষ্ট এবং বৃহস্পতির দিকে বাঁকানো
- অবিচ্ছিন্ন, গভীর ও কোনো দ্বীপ বা ছেদ ছাড়া সুন্দর গোলাপী রেখা
- উর্ধ্বমুখী হয়ে সরাসরি বৃহস্পতি পর্বতে (গুরু পর্বত) সমাপ্ত হয়
- তর্জনীর নিচে সুন্দর ত্রিশূল চিহ্নে সমাপ্তি ঘটে
- সূর্য ও বৃহস্পতি পর্বতের দিকে ওঠা শুভ সূক্ষ্ম শাখা রেখা
শৃঙ্খলযুক্ত, নিচুতে হেলে পড়া বা ভাঙা
- শিকলের মতো যুক্ত বা একাধিক দ্বীপচিহ্নযুক্ত গঠন
- হাতের মাঝামাঝি আকস্মিক ছেদ বা ব্যবধান
- মস্তক রেখার দিকে তীব্রভাবে নিচের দিকে ঝুঁকে যাওয়া
- রেখার ওপর কালো তিল, দাগ বা ক্রুশ চিহ্ন
খাঁটি মুক্তা (Moti) ধারণ করুন; "ওঁ সোং সোমায় নমঃ" জপ করুন; অনাহত চক্র ধ্যান এবং নিঃস্বার্থ সেবা করুন।
মস্তক রেখা (Mastishka Rekha)
Mastishka Rekhaহাতের অবস্থান: হাতের কেন্দ্র দিয়ে অতিক্রম করে; বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর মধ্যবর্তী স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে অপর প্রান্তে যায়।
অবিচ্ছিন্ন, মৃদু ঢাল এবং লেখকের দ্বিশাখা (Writer’s Fork)
- মসৃণ, অবিচ্ছিন্ন, গভীর রেখা যা ঊর্ধ্ব মঙ্গল বা চন্দ্র পর্বতের দিকে প্রসারিত
- প্রান্তে পরিষ্কার দুটি শাখা (প্রতিভাবান লেখক বা আইনজীবীর দ্বিশাখা)
- জীবন রেখা থেকে সুষম ও স্বাভাবিক ব্যবধানে উৎপত্তি
- কোনো দ্বীপ বা কালো গর্ত ছাড়া উজ্জ্বল গোলাপী আভা
খাটো, খণ্ডিত বা খাড়াভাবে নিচে নেমে যাওয়া
- মইয়ের মতো ভাঙা বা খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত রেখা
- শনি পর্বতের নিচে (ল্যান্ডমার্ক ৯) বড় দ্বীপ বা ছিদ্র
- নিম্ন চন্দ্র পর্বতে ৯০ ডিগ্রির মতো খাড়াভাবে নেমে যাওয়া
- বিদ্যুতের মতো আঁকাবাঁকা ও বিশৃঙ্খল রেখা
সরস্বতী বন্দনা বা "ওঁ বুধায় নমঃ" জপ করুন; অনুলোম-বিলোম প্রাণায়াম করুন; বাড়িতে সবুজ গাছপালা রাখুন।
জীবন রেখা (Jeevan Rekha)
Jeevan Rekha (Ayu Rekha)হাতের অবস্থান: বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর মধ্যস্থল থেকে শুরু হয়ে শুক্র পর্বতকে বৃত্তাকারে ঘিরে কব্জির দিকে বিস্তৃত হয়।
প্রশস্ত বৃত্তচাপ, গভীর এবং কব্জি পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন
- সমগ্র শুক্র পর্বতকে সুন্দরভাবে ঘিরে থাকা দীর্ঘ ও সুষম বৃত্তচাপ
- কোনো ভাঙন, বাধা বা শিকল ছাড়া গভীর ও মসৃণ খাঁজ
- সমান্তরাল মঙ্গল রেখার (সহায়ক রেখা) সুরক্ষা উপস্থিতি
- বৃহস্পতি ও সূর্যের দিকে ওঠা শুভ উর্ধ্বমুখী শাখা
শুরুতে শৃঙ্খলিত, ভাঙা বা আড়াআড়ি রেখায় বিদ্ধ
- মইয়ের মতো ভাঙা বা মাঝে বড় ফাঁকযুক্ত রেখা
- বৃদ্ধাঙ্গুলির কাছে রেখার শুরুতে দ্বীপের গুচ্ছ
- একাধিক আড়াআড়ি রাহু রেখা দ্বারা গভীরভাবে কর্তিত
- হাতের মাঝখানেই ক্রুশ চিহ্নসহ আকস্মিকভাবে শেষ হওয়া
প্রতিদিন ১০৮ বার মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করুন; সূর্যোদয়ে তামার পাত্রে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য দিন; ৫-মুখী রুদ্রাক্ষ পরুন।
ভাগ্য রেখা (শনি রেখা)
Bhagya Rekhaহাতের অবস্থান: হাতের গোড়া বা কব্জি থেকে উলম্বভাবে সোজা মধ্যমা আঙুলের (শনি পর্বত) দিকে অগ্রসর হয়।
সোজা, গভীর এবং শনি পর্বতে বাধাহীন পৌঁছানো
- কব্জি বা চন্দ্র থেকে পরিষ্কারভাবে উঠে সরাসরি শনি পর্বতের কেন্দ্রে প্রবেশ
- আড়াআড়ি রেখা বা দ্বীপহীন অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ
- শীর্ষে বৃহস্পতি বা সূর্য পর্বতের দিকে শুভ শাখা বিস্তার
- উভয় হাতেই শক্তিশালী ও দৃশ্যমান উপস্থিতি
অনুপস্থিত, খণ্ডিত বা হৃদয় রেখায় আটকে যাওয়া
- হাতে একেবারেই অনুপস্থিত বা সুতোর মতো অস্পষ্ট
- হৃদয় বা মস্তক রেখায় এসে ক্রুশ চিহ্নে আকস্মিক থেমে যাওয়া
- আঁকাবাঁকা বা একাধিক আড়াআড়ি রেখায় বারবার বিদ্ধ
- শনি পর্বতে দ্বীপ বা কালো দাগে শেষ হওয়া
শনি শান্তি পূজা করুন; শনিবার অশ্বত্থ গাছের নিচে সরিষার তেলের প্রদীপ জ্বালান; অসহায় ও পথকুকুরদের খাবার দিন।
সূর্য রেখা (রবি রেখা)
Surya Rekha (Kirti Rekha)হাতের অবস্থান: হাতের ওপর সোজা উঠে অনামীকা আঙুলের নিচে অবস্থিত সূর্য পর্বতে সমাপ্ত হয়।
সূর্য পর্বতে সমাপ্ত সুদৃঢ় উলম্ব রেখা
- সূর্য পর্বতে কোনো ত্রুটি ছাড়াই সমাপ্ত হওয়া বলিষ্ঠ উলম্ব রেখা
- সূর্য পর্বতে শুভ তারা, ত্রিভুজ বা ত্রিশূলের উপস্থিতি
- একটি শক্তিশালী ভাগ্য রেখার পাশাপাশি সমান্তরাল অবস্থান
ঢেউখেলানো, জালযুক্ত বা অনুপস্থিত
- অস্পষ্ট, ঝাপসা বা জালের মতো রেখা দ্বারা আবৃত
- অনামীকার নিচে কালো তিল বা ক্রুশ চিহ্ন দ্বারা কাটা
- অসংখ্য ছোট ছোট টুকরোয় বিভক্ত রেখা
রবিবারে আদিত্য হৃদয় স্তোত্র পাঠ করুন; লাল চন্দন মিশ্রিত জল দিয়ে সূর্যকে অর্ঘ্য দিন; রাশিতে সূর্য অনুকূল হলে মাণিক্য পরুন।
বুধ রেখা / স্বাস্থ্য রেখা
Budha Rekha (Swasthya Rekha)হাতের অবস্থান: জীবন রেখার কাছ থেকে অথবা কব্জি থেকে তির্যকভাবে উঠে কনিষ্ঠা আঙুলের নিচে বুধ পর্বতের দিকে যায়।
পাতলা, সোজা এবং সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট
- পরিষ্কার, অবিচ্ছিন্ন রেখা যা জীবন রেখাকে কেটে ভেতরে প্রবেশ করে না
- সরাসরি বুধ পর্বতের দিকে সোজা গমন
- কোনো মইয়ের দাগ ছাড়া সুন্দর গোলাপী আভা
সাপের মতো আঁকাবাঁকা, মইযুক্ত বা দ্বীপবিশিষ্ট
- সাপের মতো আঁকাবাঁকা গতিপথ
- মইয়ের মতো খণ্ডে খণ্ডে যুক্ত গঠন
- জীবন রেখাকে গভীরভাবে কেটে যাওয়া
- রেখার ওপর ছোট গোলকের মতো দ্বীপের উপস্থিতি
কনিষ্ঠায় সোনায় পান্না (Emerald) পরুন; "ওঁ বুধায় নমঃ" জপ করুন; তামার পাত্রে জল পান করুন; বুধবারে সবুজ মুগ ডাল দান করুন।
বিবাহ ও সম্পর্ক রেখা
Vivaha Rekhaহাতের অবস্থান: কনিষ্ঠা আঙুলের গোড়ায় হাতের বাইরের প্রান্তে হৃদয় রেখার ওপরে অবস্থিত ছোট অনুভূমিক রেখা।
গভীর, সোজা এবং অবিচ্ছিন্ন অনুভূমিক রেখা
- কোনো শাখা বা দ্বিশাখা ছাড়া একটি বা দুটি গভীর, স্পষ্ট রেখা
- হৃদয় রেখার সমান্তরালে সোজা বিস্তৃত
- দ্বীপ, ক্রুশ বা নিচের দিকে হেলে পড়া শাখামুক্ত
দ্বিখণ্ডিত, নিচের দিকে ঝুলে পড়া বা দ্বীপযুক্ত
- রেখার শেষপ্রান্ত সাপের জিবের মতো দুই ভাগে বিভক্ত
- নিচের দিকে বাঁক নিয়ে সরাসরি হৃদয় রেখাকে কেটে যাওয়া
- রেখার মাঝে বা শেষে দ্বীপচিহ্নের উপস্থিতি
- উলম্ব তীক্ষ্ণ কাঁটার মতো রেখা দ্বারা কাটা
গৌরী-শঙ্কর পূজা করুন; তুলসী গাছে নিত্য জল দিন; শয়নকক্ষে রোজ কোয়ার্টজ ক্রিস্টাল রাখুন; সংলাপে ধৈর্যশীল হোন।
সৌভাগ্য মণিबंध (Rascettes)
Manibandha Rekhasহাতের অবস্থান: কব্জি এবং হাতের তালুর মিলনস্থলে অবস্থিত অনুভূমিক বৃত্তাকার রেখা।
তিনটি স্পষ্ট, অটুট ও সমান্তরাল রেখা (রাজকীয় ত্রয়ী)
- তিনটি অটুট, স্পষ্ট সমান্তরাল রেখা (রাজকীয় ত্রয়ী)
- প্রথম রেখাটি (স্বাস্থ্য) গভীর ও কোনো ধনুকের মতো বাঁকহীন
- দ্বিতীয় রেখাটি (সম্পদ) পুরো কব্জি জুড়ে বিস্তৃত
- তৃতীয় রেখাটি (প্রভাব/যশ) স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান
হাতে বাঁকা হয়ে ওঠা, ভাঙা বা অনুপস্থিত
- প্রথম রেখাটি তালুর মধ্যে ধনুকের মতো তীব্রভাবে বেঁকে ওঠা
- ছোট ছোট টুকরোয় খণ্ডিত বা বিচ্ছিন্ন
- কালো তিল বা ক্রুশ চিহ্ন দ্বারা বিঘ্নিত
মূলবন্ধ ও পেলভিক আসন অভ্যাস করুন; ডান কব্জিতে খাঁটি রূপার বালা পরুন; প্রতিদিন গায়ত্রী মন্ত্র জপ করুন।
বৃহস্পতি পর্বত (Mount of Jupiter)
Guru Parvatহাতের অবস্থান: তর্জনী আঙুলের ঠিক নিচে অবস্থিত মাংসল কুশন।
উন্নত, দৃঢ় ও স্বাস্থ্যকর গোলাপী আভা
- পরিমিত উঁচু, স্পর্শে দৃঢ় এবং উজ্জ্বল গোলাপী ত্বক
- স্পষ্ট স্বাধীন ক্রুশ (শুভ ক্রস), চতুষ্কোণ বা সলোমন রিং
- জীবন রেখা থেকে বৃহস্পতি পর্বতে ওঠা অগ্রগতি রেখা
চ্যাপ্টা, অবনমিত বা জালে আবৃত
- সম্পূর্ণ সমতল বা গর্তের মতো নিচু অংশ
- কাটাকাটি রেখার ঘন জাল বা জালিকা
- কালো তিল বা ফ্যাকাশে হলদেটে বর্ণ
পোখরাজ (Yellow Sapphire) পরুন; গুরু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করুন; বৃহস্পতিবারে ছোলার ডাল ও কলা দান করুন।
শনি পর্বত (Mount of Saturn)
Shani Parvatহাতের অবস্থান: মধ্যমা আঙুলের ঠিক নিচে অবস্থিত অংশ।
মসৃণ, সুষম ও পরিমিত উচ্চতা
- শান্ত, পরিমিত উচ্চতা, বিশৃঙ্খলাহীন ত্বক
- কেন্দ্রে প্রবেশকারী একটিমাত্র একক ভাগ্য রেখা
- সুরক্ষাকারী শুভ চতুষ্কোণের উপস্থিতি
অতিরিক্ত স্ফীত, কঠিন বা জালাকীর্ণ
- অস্বাভাবিক রকম শক্ত ও স্ফীত মাংসপিণ্ড
- কালো রেখার ঘন জাল বা জালিকা
- পাহাড়ের ওপর ক্রুশ, দ্বীপ বা তিল
নিত্য হনুমান চালিশা পাঠ করুন; পাখি ও কালো গরুকে খাবার দিন; শনিবার ঘোড়ার নালের তৈরি লোহার আংটি পরুন।
সূর্য পর্বত (Mount of Sun)
Surya Parvatহাতের অবস্থান: অনামীকা আঙুলের ঠিক নিচে অবস্থিত মাংসল অংশ।
উজ্জ্বল, সুষম ও চমৎকার গোলাপী আভা
- মাংসল, কোমল ও সুস্থ গোলাপী আভার কুশন
- তার ওপর স্পষ্টভাবে সমাপ্ত হওয়া সূর্য রেখা
- শুভ তারা, ত্রিভুজ বা পদ্মের পাপড়ির চিহ্ন
চ্যাপ্টা বা দাগযুক্ত ও বিবর্ণ
- কোনো কুশন ছাড়া গর্তের মতো চ্যাপ্টা স্থান
- পাহাড়ের ওপর সরাসরি কালো তিল, দাগ বা ক্রুশ চিহ্ন
- বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কাটাকাটি রেখা
গায়ত্রী মন্ত্র দিয়ে সূর্যের উপাসনা করুন; প্রত্যুষে সূর্যপ্রণাম করুন; রবিবারে গম, গুড় বা লাল বস্ত্র দান করুন।
বুধ পর্বত (Mount of Mercury)
Budha Parvatহাতের অবস্থান: কনিষ্ঠা আঙুলের ঠিক নিচে অবস্থিত কুশন।
উন্নত, মসৃণ এবং চিকিৎসাগত রেখাযুক্ত
- গোলাপী ত্বকের দৃঢ় ও সতেজ উচ্চতা
- ৩-৪টি খাড়া সমান্তরাল সূক্ষ্ম রেখা (চিকিৎসক বা নিরাময়কারীর চিহ্ন)
- শুভ ত্রিভুজ বা ত্রিশূলের চিহ্ন
চ্যাপ্টা, পাশে হেলে পড়া বা জালযুক্ত
- খাঁচার মতো ঘন ও এলোমেলো জালিকা
- হাতের কিনারার দিকে বেশি হেলে পড়া
- কালো তিল বা অস্বাভাবিক বিবর্ণতা
বুধবারে গণেশজিকে দূর্বা অর্পণ করুন; "ওঁ গাং গণপতয়ে নমঃ" জপ করুন; সবুজ মুগ ডাল দান করুন; বুধবারে সবুজ বস্ত্র পরুন।
ত্রিশূল (Trident) চিহ্ন
Trishula Chihnaহাতের অবস্থান: শিবের ত্রিশূলের ন্যায় তিনমুখযুক্ত পবিত্র চিহ্ন যা রেখার শীর্ষে বা পর্বতের ওপর প্রকাশ পায়।
উর্ধ্বমুখী, স্পষ্ট ও নিখুঁত ত্রিশূল
- তিনটি সমান ও স্পষ্ট উর্ধ্বমুখী শাখা
- বৃহস্পতি, শনি বা সূর্য পর্বতের ওপর অবস্থান
- ভাগ্য বা সূর্য রেখার শীর্ষ মুকুট হিসেবে বিরাজমান
নিম্নমুখী বা অসম্পূর্ণ ত্রিশূল
- কব্জির দিকে নিচের দিকে মুখ করা তিনটি শাখা
- এক বা দুটি শাখা ভাঙা অথবা ক্রুশ দ্বারা কর্তিত
- অস্পষ্ট ও ঝাপসা গঠন
সোমবারে শিবলিঙ্গে বেলপাতা ও দুধ অর্পণ করুন; মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করুন; জীবনের একটি মূল লক্ষ্যে মনোনিবেশ করুন।
মৎস্য (মাছ) চিহ্ন
Matsya Chihnaহাতের অবস্থান: দুটি ধনুকের মতো বাঁকা রেখার মিলনে গঠিত মাছের মতো ডিম্বাকৃতি পবিত্র চিহ্ন যার একটি লেজ থাকে।
উর্ধ্বমুখী স্পষ্ট মাছের প্রতিচ্ছবি
- কব্জির দিকে লেজ এবং হাতের তালুর দিকে মুখ করা নিখুঁত মাছ
- ভেতরে কোনো কাটাকাটি রেখা বা কালো তিলমুক্ত পরিষ্কার শরীর
- কেতু বা জীবন রেখার পাদদেশে বিরাজমান
উল্টানো বা মুখ খোলা মাছ
- কব্জির দিকে মুখ করে নিচের দিকে থাকা মাছ
- মুখ বা লেজের অংশ খোলা থাকা (অসম্পূর্ণ চিহ্ন)
- কোনো আড়াআড়ি রেখা দ্বারা মাঝখানে দ্বিখণ্ডিত
বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করুন; বৃহস্পতিবারে নদী বা পুকুরের মাছকে খাদ্য দিন; গৃহের উত্তর দিকে পিতলের মাছের প্রতিকৃতি রাখুন।
পদ্ম (কমল) চিহ্ন
Padma Chihnaহাতের অবস্থান: পদ্মের পাপড়ির মতো পবিত্র জ্যামিতিক বিন্যাস যা সাধারণত বৃহস্পতি, সূর্য বা চন্দ্র পর্বতে দেখা যায়।
প্রস্ফুটিত বহু-পাপড়ির নিখুঁত পদ্ম
- উর্ধ্বমুখী সুষম পাপড়ির বিন্যাস
- আশেপাশের ত্বকে উজ্জ্বল সোনালী বা গোলাপী আভা
- একটি স্পষ্ট সূর্য রেখা বা গুরুর ক্রসের সাথে সন্নিবিষ্ট
অসম্পূর্ণ বা চূর্ণ-বিচূর্ণ পাপড়ি
- কালো কাটাকাটি রেখায় খণ্ডিত পাপড়ি
- হাতের চামড়ার ভাঁজের মধ্যে প্রায় মিলিয়ে যাওয়া অস্পষ্ট রেখা
শুক্রবারে শ্রী সূক্তম পাঠ করুন; মা লক্ষ্মীকে গোলাপী পদ্ম নিবেদন করুন; অহংকারমুক্তির ধ্যান অনুশীলন করুন।
স্বস্তিক (মঙ্গল প্রতীক) চিহ্ন
Swastika Chihnaহাতের অবস্থান: ঘড়ির কাঁটার দিকে সমকোণে বাঁকা চার বাহুযুক্ত পরম পবিত্র বৈদিক চিহ্ন।
সমকোণে দক্ষিণাবর্ত স্বস্তিক চিহ্ন
- চারটি বাহু দৈর্ঘ্য ও অনুপাতে নিখুঁত ও সুষম
- চারটি কোণই ঘড়ির কাঁটার দিকে (দক্ষিণাবর্ত) সঠিকভাবে বাঁকানো
- কোনো ছেদ বা অস্পষ্টতা ছাড়া গভীর ও ধারালো রেখা
বামাবর্ত বা ভাঙা বাহুযুক্ত
- ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে বাঁকানো বাহু (বামাবর্ত)
- একটি বা দুটি বাহু মাঝখানে ভাঙা বা খণ্ডিত
ঘরের প্রধান দ্বারে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক আঁকুন; নিত্য ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান; "ওঁ স্বস্তি নো বৃহস্পতির্দধাতু" জপ করুন।
